আশরাফুল আলম সজিব।। বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপের প্রভাবে ভোলায় বৈরী আবহাওয়া বিরাজ করছে। ভোলা নদীবন্দরে ২ নম্বর সতর্কসংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। এতে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন। সমূদ্র বন্দরগুলোতে ৩ নম্বর শতর্ক সংকেত থাকায় ভোলা থেকে সকল রুটের নৌযান চলাচল বন্ধ রয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৯ মে) সকাল থেকে ভোলা-ঢাকা, ভোলা-লক্ষ্মীপুর, ভোলা-বরিশাল, মনপুরা-ঢালচড় নৌরুটে লঞ্চ চলাচল বন্ধ রয়েছে। বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপের কারণে বৃষ্টিপাত ও ঝোড়ো হাওয়া বইতে শুরু করেছে। সকাল থেকে শুরু হওয়া ঝড়বৃষ্টি চলমান থাকায় এ ৪টি নৌরুটে লঞ্চ চলাচল বন্ধ রাখা হয়।
গতকাল সন্ধা থেকে আজ দুপুর পর্যন্ত থেমে থেমে বৃষ্টিসহ দমকা বাতাস বয়ে যাচ্ছে। মেঘনা ও তেঁতুলিয়া নদীতে ৩/৪ ফুঁট পানি বৃদ্ধি পেয়েছে।
তা ছাড়া অতিবৃষ্টির পানিতে ভোলা পৌর শহরের বিভিন্ন অলি গলিতে মারাত্মক জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। ফলে ভোগান্তিতে পড়েছে শহরবাসী।
অপরদিকে অদূরবর্তী চরসমূহের নিন্মাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে ও পানি ডুকেছে ঘর বাড়িতে। জেলার ২৫০ কিলোমিটার বেরী বাঁধের মধ্যে তজুমদ্দিন স্লুইস গেট এলাকায় উপচে পড়া পানি ঢুকে বাঁধ ভেঙ্গে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। এলাকাবাসীর সহায়তায় ভোলা পানি উন্নয়ন বোর্ড জিও ব্যাগ দিয়ে কোনো রকমে উপচে পড়া পানি ঢোকা বন্ধ করলেও যে কোনো মূহুর্তে বাঁধ ভেঙ্গে গিয়ে বিস্তৃর্ন এলাকা প্লবিত হওয়ার আশংকা করছেন স্থানীয়রা।
এদিকে ফেরি ও সকল দরনের নৌযান বন্ধ থাকায় অন্যান্য জেলা থেকে আগত যাত্রীবাহী বাস ও পন্যবাহী যান সহ আটকা পড়েছে লাশবাহী এম্বুলেন্সও। ভোগান্তিতে পড়েছে
ভোলা পানি উন্নয়ন বোর্ড -২ এর নির্বাহী প্রকৌশলী আসফাউদদৌলা জানান, তজুমদ্দিনের স্লুইস গেট এলাকায় ব্লক ও জিও ব্যাগ দিয়ে বাঁধটিকে রক্ষা করা হয়েছে। এখন আর ভেঙ্গে যাওয়ার কোনো আশঙ্কা নেই।
ভোলা আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মিনিজ্জামান জানান, গত ২৪ ঘন্টায় ২৩.৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। দিনের তাপমাত্রা ১ থেকে ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস কমেছে।
ভোলা বিআইডব্লিউটিএর সহকারী পরিচালক রিয়াদ হোসেন জানান, নদী বন্দরগুলোতে ৩ নম্বর শতর্ক সংকেত থাকায় ভোলা থেকে সকল রুটের নৌ চলাচল বন্ধ রয়েছে। পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত এ আদেশ বলবত থাকবে।
জেলা প্রসাশক আজাদ জাহান জানান, নিন্মঞ্চল পানিতে প্লাবিত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে, কোনো জানমালের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। ক্ষয়ক্ষতি নিরুপন করে করে ব্যবস্থ্যা নেওয়া হবে। এছাড়া চড় সমূহে শুকনো খাবার বিতরণ করার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
প্রকাশক ও সম্পাদক: আশরাফুল আলম সজিব