আশরাফুল আলম সজিব।। আগামীকাল ১০ ডিসেম্বর পালিত হবে দক্ষিণ গাঙ্গেয় দ্বীপ জেলা ভোলার হানাদারমুক্ত দিবস। ১৯৭১ সালের এই দিনে মুক্তিযোদ্ধাদের তীব্র প্রতিরোধে কোনঠাসা হয়ে পড়া পাক বাহিনী কার্গো লঞ্চে করে ভোলা ত্যাগ করতে বাধ্য হয়। ফলে জাতীয় বিজয়ের আগেই ১০ ডিসেম্বর ভোলা হয় শত্রুমুক্ত।
তথ্য অনুযায়ী, হানাদাররা পালানোর পর সকালেই বর্তমান জেলা হিসাব রক্ষণ অফিস ভবনের ছাদে লাল-সবুজের পতাকা উত্তোলন করে ভোলাকে মুক্ত ঘোষণা করেন মুক্তিযোদ্ধারা। শহরের বিভিন্নস্থান—ওয়াপদা, পাওয়ার হাউজ ও সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় এলাকায় ক্যাম্প স্থাপন করা হয় এবং শহরজুড়ে চলে আনন্দ মিছিল।
মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে ভোলা সরকারি স্কুল মাঠ, বাংলা স্কুল, টাউন স্কুল ও ভোলা কলেজ মাঠে প্রশিক্ষণ কেন্দ্র গড়ে ওঠে। পরবর্তীতে ঘুইংঘারহাট, দৌলতখান, বাংলা বাজার, বোরহানউদ্দিনের দেউলা ও চরফ্যাশনে সম্মুখযুদ্ধে বহু পাক সেনাকে পরাজিত করা হয়; শতাধিক মুক্তিযোদ্ধা তখন শহীদ হন। তেঁতুলিয়া-মেঘনার পাড়ে অসংখ্য মুক্তিযোদ্ধা ও নিরীহ মানুষকে হত্যা করে নদীতে ফেলে দিত পাক সেনারা। শহরের বিভিন্ন স্থানে গণকবরের চিহ্ন আজও ইতিহাসের সাক্ষ্য বহন করছে।
ওয়াপদা কলোনী ছিল হানাদারদের নৃশংসতার প্রধান ঘাঁটি। এখান থেকেই নারীসহ বহু মানুষকে ধরে এনে নির্যাতন, হত্যা ও গণকবর দেওয়া হতো। স্বাধীনতার পর এখানে ৩০ জন বীরাঙ্গনাকে জীবিত উদ্ধার করা হয়।
ইতিহাসে জানা যায়, ১৯৭১ সালের ১০ ডিসেম্বর ভোরে গুলি ছুড়ে আতঙ্ক ছড়ানোর চেষ্টা করে পাক সেনারা। তবে মুক্তিযোদ্ধা কাজী জয়নাল ও ফিরোজের নেতৃত্বে ১৩ যোদ্ধার দল তাদের ধাওয়া করলে তারা কার্গো লঞ্চে করে পালাতে বাধ্য হয়। মুক্তিকামী জনতা খালে গাছ ফেলে ব্যারিকেড তৈরি করেছিল। পরে মিত্রবাহিনীর হামলায় লঞ্চটি চাঁদপুর-মেঘনা এলাকায় ডুবে যায় বলে জানা যায়।
মুক্তিযোদ্ধা আলম নিরবসহ কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শীর বর্ণনায় জানা যায়, ৬ মে বরিশাল থেকে লঞ্চযোগে ভোলায় প্রবেশ করে পাক বাহিনী। স্থানীয় রাজাকারদের সহযোগিতায় তারা শহরে টহল, ধরপাকড় ও গণহত্যা চালায়। বিশেষ করে রাত হলেই নারী ও যুবকদের ধরে এনে ওয়াপদার পেছনে গণকবর দিতো বা খেয়াঘাটে নিয়ে গুলি করে নদীতে ফেলে দিত।
অন্যদিকে, মুক্তিযুদ্ধের বহু রণাঙ্গন ও বধ্যভূমির মধ্যে ওয়াপদা (পাউবো) এলাকা ও বাংলা বাজারের দুটি স্থান সংরক্ষণের কাজ হলেও অন্যান্য ঐতিহাসিক স্থানে এখনো সংরক্ষণ হয়নি।
এদিকে দিবসটিকে যথাযোগ্য মর্যাদায় উদ্যাপনের জন্য আগামীকাল জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বর্ণাঢ্য র্যালি ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছে।
প্রকাশক ও সম্পাদক: আশরাফুল আলম সজিব