আশরাফুল আলম সজিব।। নদীভাঙনে ঘরবাড়ি হারিয়ে ১০ বছরের প্রতিবন্ধী সন্তানকে নিয়ে নতুন করে বাঁচার স্বপ্ন দেখেছিলেন পারভিন বেগম। মাথা গোঁজার ঠাঁই হিসেবে ৯০ হাজার টাকা দিয়ে সরকারি আবাসন প্রকল্পের একটি ঘর কিনেছিলেন তিনি। কিন্তু সেই আশ্রয়ের ঘরেই হামলার শিকার হয়ে রক্তাক্ত হওয়ার অভিযোগ করেছেন পারভিন।
ভোলার লালমোহন উপজেলার ফরাজগঞ্জ ইউনিয়নের আদর্শ গ্রামের পারভিনের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে তাকে ঘর ছেড়ে দিতে চাপ দিয়ে আসছিলেন পাশের বাসিন্দা জাহিদ। গত ১৫ সেপ্টেম্বর কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে জাহিদ, তার ছেলে রাব্বি, পেয়ারা বেগম ও আব্দুর রহিম তার ওপর হামলা চালান বলে অভিযোগ করেন তিনি।
পারভিনের দাবি, হামলায় লোহার রড ও ধারালো অস্ত্র ব্যবহার করা হয়। এতে মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আহত হন তিনি। তাকে রক্ষা করতে গিয়ে পারভেজ নামের আরেকজনও আহত হন। পরে তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে পারভিনকে ভোলা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়।
পারভিন জানান, প্রায় এক বছর আগে ঢালচরের নদীভাঙনে সব হারিয়ে প্রতিবন্ধী সন্তানকে নিয়ে এই ঘরটি কিনেছিলেন তিনি। বর্তমানে সেই ঘরেই থাকতে ভয় পাচ্ছেন বলে জানান পারভিন।
পরিবারের অভিযোগ, হামলার ঘটনায় আদালতে মামলা করার পর অভিযুক্তরা তাদের ভয়ভীতি ও হত্যার হুমকি দিচ্ছেন। ফলে প্রতিবন্ধী সন্তানকে নিয়ে চরম নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটছে তাদের।
পারভিনের আকুতি, আমার প্রতিবন্ধী সন্তানকে নিয়ে আমি কোথায় যাব? অনেক কষ্টে একটা ঘর পেয়েছি, সেই ঘরটুকুও যদি নিরাপদ না হয়, তাহলে আমাদের আশ্রয় কোথায়?
এ বিষয়ে লালমোহন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম বলেন, কোর্টে মামলা হয়েছে। আদালতের আদেশ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
প্রকাশক ও সম্পাদক: আশরাফুল আলম সজিব