আশরাফুল আলম সজিব।।ভোলায় মেডিকেল কলেজ স্থাপন, ভোলার গ্যাস ভোলায় বিতরণ ও ভোলা-বরিশাল সেতু নির্মাণসহ দ্বিতীয় দিনেও বিক্ষোভের মধ্যে দিয়ে চলছে ছাত্র-জনতার আন্দোলন। ইন্ট্রাকো গ্যাস কোম্পানির চুক্তি বাতিলের দাবিতে উত্তাল ভোলা। ছাত্র - জনতার চলমান আন্দোলনের সাথে একাত্মতা প্রকাশ করে "আগামীর ভোলা" নামের ব্যানারে সমাবেশ করেছে ভোলার সর্বস্তরের মানুষ।
আজ ২০ এপ্রিল রোববার ভোলা বাংলা স্কুল মাঠে হাজার হাজার ভোলাবাসীর উপস্থিতিতে এই সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
সমাবেশে বক্তারা বলেননা, ভোলার ২২ লক্ষ মানুষের চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করার জন্য একটি মেডিকেল কলেজ স্থাপন করা ভোলার মানুষের প্রাণের দাবি। ১০০ শয্যার হাসপাতালের জনবল দিয়েই খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালটি। সামান্য সমস্যা দেখা দিলেই রোগীকে পাঠিয়ে দেয়া হচ্ছে বরিশাল ও ঢাকায়। দায়মুক্ত হচ্ছেন চিকিৎসকরা। এ যেন এক মরার উপর খাড়ার ঘা।
এদিকে বাপেক্সের হিসাব মতে ভোলায় ৭ টিসিএফ গ্যাস মৌজুদ রয়েছে। নামে মাত্র ২৩৩৫টি আবাসিক সংযোগ দেয়া হয়েছে। অথচ দৈনিক ৭ মিলিয়ন ঘনফোট গ্যাস উত্তোলন করা হয়। যা ইন্ট্রাকো গ্যাস কোম্পানী বোতলজাত করে ভোলার বাহিরে বিক্রি করছে। অথচ ভোলার মানুষ ভোলার গ্যাস ব্যবহার করতে পারছে না। এই স্বৈরাচারী বৈষম্য নিরসন হওয়া একান্ত দরকার। আমাদের গ্যাস আমরা ব্যবহার করতে পারব না এটা মেনে নেয়ার কোন সুযোগ নেই।
অপরদিকে ভোলার ২২ লক্ষ মানুষের বাংলাদেশের যে কোন জায়গার সাথে যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম নদীপথ। ঝড়- জ্বলোচ্ছ্বাসের এই দ্বীপে বর্ষার মৌসুমে লঞ্চ দুর্ঘটনায় হাজারো মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে। এরকম ঘটনার শেষ নেই। সরকারের একটু সু-দৃষ্টি হলেই ভোলা-বরিশাল ১টি সেতু নির্মানের মাধ্যমে ভোলাকে দেশের মূল ভূখণ্ডের সাথে সড়ক পথে সংযোগ করতে পারে। এক্ষেত্রে আমরা বর্তমান সরকারের সদিচ্ছার দাবি জানাই।
"আগামীর ভোলা'র" প্রধান সমন্বয়ক জসিম উদ্দীনের সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য রাখেন, জেলা বিএনপি'র সদস্য সচিব রাইসুল আলম, বিজেপি'র সভাপতি আমিরুল ইসলাম রতন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ভোলা পৌর আমীর, জামাল উদ্দিন, বিজেপি'র সাধারণ সম্পাদক মোতাসিম বিল্লাহ, ভোলা দারুল হাদিস কামিল মাদ্রাসার উপাধ্যক্ষ মোবাশ্বিরুল হক নাঈম, শহীদ জিয়া আদর্শ গার্লস স্কুল এন্ড কলেজ'র সাবেক অধ্যক্ষ খালেদা খানম, জেলা বিএনপি'র যুগ্ন আহবায়ক এনামুল হকসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
সমাবেশ শেষে ৩টি দাবি সম্বলিত একটি স্মারক লিপি ভোলা জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধান উপদেষ্টা বরাবর প্রেরণ করা হয়। সমাবেশে জেলা সদর ছাড়াও বিভিন্ন উপজেলা থেকে হাজার হাজার ছাত্র-জনতা যোগ দেয়।
উল্লেখ্য, ভোলার গ্যাস ভোলায় চাই, ঘরে ঘরে গ্যাস চাই' আন্দোলনের অংশ হিসাবে গত দুই দিন বিক্ষোভের মধ্যে দিয়ে চলছে ছাত্র - জনতার আন্দোলন। ইতিমধ্যে আন্দোলনকারিরা ইন্ট্রাকো গ্যাস কোম্পানির এলপিজি গ্যাস ভর্তি চারটি কাভার্ড ভ্যান ঢাকায় যাওয়ার পথে আটকিয়ে দেয় ছাত্র-জনতা।