আশরাফুল আলম সজিব।। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোলার রাজনৈতিক মানচিত্রে বড় পরিবর্তন এনে চারটি সংসদীয় আসনেই জয় পেয়েছে বিএনপি। বেসরকারি ফলাফলে দেখা গেছে—সবগুলো আসনে উল্লেখযোগ্য ব্যবধানে বিজয়ী হয়েছেন দলটির মনোনীত প্রার্থীরা।
জেলার ৫২৩টি ভোটকেন্দ্রে সকাল থেকে ভোটারদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতির মধ্য দিয়ে ভোটগ্রহণ শুরু হয়। দিনভর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্যে অধিকাংশ কেন্দ্রে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় ছিল। দুই-একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া সামগ্রিকভাবে ভোটগ্রহণ সুষ্ঠুভাবেই সম্পন্ন হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
ভোলা সদর–১, ১১৪টি ভোটকেন্দ্রে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটের প্রার্থী ও বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (বিজেপি) চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ ‘গরুর গাড়ি’ প্রতীকে পেয়েছেন ১,০৩,২৭০ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর অধ্যক্ষ নজরুল ইসলাম পেয়েছেন ৭২,৪৭১ ভোট। ৩০,৭৯৯ ভোটের ব্যবধানে পার্থ বেসরকারিভাবে বিজয়ী হন।
ভোলা–২ (দৌলতখান–বোরহানউদ্দিন) ১৩৮টি কেন্দ্রে বিএনপির প্রার্থী আলহাজ্ব হাফিজ ইব্রাহিম (ধানের শীষ) পেয়েছেন ১,২১,০০৫ ভোট। জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মুফতি মাওলানা ফজলুল করিম (দাঁড়িপাল্লা) পেয়েছেন ৯৩,৪৯৮ ভোট। ২৭,৫০৭ ভোটের ব্যবধানে জয় পান হাফিজ ইব্রাহিম।
ভোলা–৩ (লালমোহন–তজুমদ্দিন) ১১৯টি কেন্দ্রে বিএনপির মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীর বিক্রম ধানের শীষ প্রতীকে পেয়েছেন ১,৫১,৭৭৪ ভোট। ১১ দলীয় জোট (পিডিএফ) প্রার্থী ফুলকপি প্রতীকে পেয়েছেন ৫৫,৬৬০ ভোট। ৯৬,১১৪ ভোটের বিশাল ব্যবধানে জয় পান তিনি।
ভোলা–৪ (চরফ্যাশন–মনপুরা) ১৫২টি কেন্দ্রে বিএনপি প্রার্থী নুরুল ইসলাম নয়ন ধানের শীষ প্রতীকে পেয়েছেন ১,৯০,০০৫ ভোট। জামায়াতে ইসলামীর অধ্যক্ষ মোস্তফা কামাল পেয়েছেন ৮২,৩৯৮ ভোট। ১,০৮,০০৭ ভোটের ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করেন নয়ন।
ভোটগ্রহণ শেষে কেন্দ্রভিত্তিক গণনা সম্পন্ন করে সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তারা বেসরকারি ফলাফল ঘোষণা করেন। চার আসনেই বিএনপির বড় ব্যবধানে জয় জেলার রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন বার্তা দিয়েছে বলে মনে করছেন স্থানীয় পর্যবেক্ষকরা।
নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, আনুষ্ঠানিক গেজেট প্রকাশের পর ফলাফল চূড়ান্ত হবে।
প্রকাশক ও সম্পাদক: আশরাফুল আলম সজিব