স্টাফ রিপোর্টারঃ চাঁদপুরের মেঘনা নদীতে ঘন কুয়াশার কারণে যাত্রীবাহী দুটি লঞ্চের ভয়াবহ সংঘর্ষে শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত ৮ জন যাত্রী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় অর্ধশতাধিক যাত্রী আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে বেশ কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।
বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) দিবাগত রাত আনুমানিক ২টার দিকে চাঁদপুর সদর উপজেলার হরিনা এলাকায় এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। শুক্রবার (২৬ ডিসেম্বর) সকালে চাঁদপুর নৌ-পুলিশ অঞ্চলের পুলিশ সুপার সৈয়দ মুশফিকুর রহমান দুর্ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
প্রত্যক্ষদর্শী ও যাত্রীদের বরাতে জানা গেছে, ভোলার চরফ্যাশনের ঘোষেরহাট থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী এম.ভি. জাকির সম্রাট–৩ লঞ্চটি ঘন কুয়াশার মধ্যে হাইমচর এলাকা অতিক্রম করছিল। এ সময় দৃষ্টিসীমা অত্যন্ত কম থাকায় দিক নির্ণয়ে ব্যর্থ হয়ে ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা বরিশালগামী এম.ভি. অ্যাডভেঞ্চার–৯ লঞ্চটি সজোরে ধাক্কা দেয় জাকির সম্রাট–৩ লঞ্চে।
সংঘর্ষে জাকির সম্রাট–৩ লঞ্চটির দ্বিতীয় তলা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধাক্কার তীব্রতায় লঞ্চটি মাঝনদীতে ডুবো-ডুবো অবস্থায় ভাসতে থাকে এবং যাত্রীদের মধ্যে ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় ভোলা থেকে ঢাকাগামী আরেকটি লঞ্চ এম.ভি. কর্ণফুলী–৯ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কাজে অংশ নেয়। লঞ্চটির ক্রু ও কর্মীরা তাৎক্ষণিকভাবে বহু যাত্রীকে উদ্ধার করে ঢাকার উদ্দেশ্যে নিয়ে যান।
চাঁদপুর বিআইডব্লিউটিএ’র উপ-পরিচালক বাবু লাল বৌদ্ধ জানান, দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। দুর্ঘটনাকবলিত লঞ্চ দুটি পরবর্তীতে নিজ নিজ গন্তব্যের দিকে রওনা দেয়।
এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত চারজন নিহতের পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে। তারা হলেন—আব্দুল গনি (৩৮), পিতা: সেরাজুল বেপারী, লালমোহন, ভোলা, মো. সাজু (৪৫), পিতা: মৃত কালুখা, লালমোহন, ভোলা, হানিফ (৬০), পিতা: আমির হোসেন, চরফ্যাশন, ভোলা, মোছা. রিনা (৩৫), স্বামী: মিলন, লালমোহন, ভোলা।
নিহতদের মরদেহ ও আহতদের চাঁদপুরসহ বিভিন্ন হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নিখোঁজদের সন্ধানে খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে এবং নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।