এইচ এম হাছনাইন।। ভোলার চরফ্যাশনে নির্বাচনী প্রচারণায় জামায়াত-বিএনপির কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় জামায়াতের অন্তত ২৫ জন নেতাকর্মী আহত হওয়ার দাবি করা হয়েছে।
সোমবার (১৫ ডিসেম্বর ২০২৫) সকালে চরফ্যাশন উপজেলার জিন্নাগর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের চকবাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী চরফ্যাশন উপজেলা শাখার নেতাকর্মীরা মোটরসাইকেল বহর নিয়ে জিন্নাগর ইউনিয়নের বিভিন্ন ওয়ার্ডে নির্বাচনী গণসংযোগ চালাচ্ছিলেন। সকাল সাড়ে ৯টার দিকে তারা চকবাজার এলাকায় পৌঁছালে স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীরা তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায় বলে অভিযোগ করা হয়।
জামায়াতের পক্ষ থেকে বলা হয়, আত্মরক্ষার্থে তাদের নেতাকর্মীরাও প্রতিরোধ গড়ে তোলে। প্রায় এক ঘণ্টা ধরে চলা সংঘর্ষে উভয় পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এতে জামায়াতের অন্তত ২০ জন নেতাকর্মী আহত হন। আহতদের মধ্যে ছয়জনকে গুরুতর অবস্থায় চরফ্যাশন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে। এ সময় পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠলে পুলিশ লাঠিচার্জ করে। অভিযোগ রয়েছে, এ সময় বিএনপি নেতাকর্মীরা পুলিশের ওপরও চড়াও হন। পরবর্তীতে নৌবাহিনীর একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী’র মিডিয়া সম্পাদক অধ্যাপক মোঃ আমির হোসেন বলেন, “নির্বাচনী গণসংযোগ চলাকালে আমাদের নেতাকর্মীদের ওপর পরিকল্পিত সন্ত্রাসী হামলা চালানো হয়েছে। অবিলম্বে হামলাকারীদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।” একই সঙ্গে তিনি আহতদের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করা এবং ভবিষ্যতে শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক কর্মসূচির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কার্যকর ভূমিকা কামনা করেন।
অন্যদিকে অভিযোগ অস্বীকার করে উপজেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক কাজী মঞ্জুর হোসেন বলেন, “জামায়াতের নেতাকর্মীরা নির্বাচনী প্রচারণার নামে ইসলাম নিয়ে বিভ্রান্তিকর বক্তব্য দিচ্ছিল। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে স্থানীয়রা প্রতিবাদ জানায়। একপর্যায়ে জামায়াতের নেতাকর্মীরাই স্থানীয়দের ওপর হামলা চালায়। এতে আমাদের কয়েকজন নেতাকর্মী আহত হয়।
চরফ্যাশন থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর বাদশা ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, “খবর পেয়ে পুলিশ ও নৌবাহিনী ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ লিখিত অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
ঘটনার ভিডিও ফুটেজ এফটিপিতে সংরক্ষিত রয়েছে। ভোলা ডিসেম্বর ২০২৫ ফোল্ডারে ‘ভোলা ইলেকশন হামলা ফুটেজ ১৫/১২/২৫’ নামে ফুটেজটি রাখা হয়েছে।