আশরাফুল আলম সজিব।। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির ও সাবেক সংসদ সদস্য অধ্যাপক মুজিবুর রহমান বলেছেন, জামায়াতে ইসলামী কখনো জান্নাতের টিকিট বিক্রি করে না; বরং মানুষকে জান্নাতের পথে চলার দিকনির্দেশনা দেয়। বুধবার ভোলায় আয়োজিত পৃথক তিনটি নির্বাচনী জনসভায় এসব কথা বলেন। তিনি অভিযোগ করেন, একটি রাজনৈতিক দল ক্ষমতায় না গিয়েই একদিকে নারী কার্ড ব্যবহার করছে, অন্যদিকে নারীদের গায়ে হাত দিয়ে অসম্মান করছে। অথচ জামায়াতে ইসলামী দুনিয়া ও আখেরাতের কল্যাণ নিশ্চিত করে দেশে ন্যায় ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করতে চায়।
বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) ভোলায় অনুষ্ঠিত তিনটি পৃথক নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, যারা মানুষ হত্যা করে, তারা কখনো মানুষের কল্যাণ করতে পারে না। নিজ দলের নেতাকর্মীরাই যেখানে নিরাপদ নয়, তারা দেশ পরিচালনা করলে সাধারণ মানুষের কী উপকার হবে—সেটাই প্রশ্ন।
অধ্যাপক মুজিবুর রহমান বলেন, বিগত ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকার ৫ আগস্টের ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে দেশ ছেড়ে পালাতে বাধ্য হলেও ভারতীয় আধিপত্যবাদ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে দেশে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়ে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির অপচেষ্টা চলছে।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতায় গেলে শিশু, বৃদ্ধ ও অসহায়দের চিকিৎসা, নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং নারীদের জন্য চাকরিতে ৬ ঘণ্টা কর্মঘণ্টাসহ বিশেষ সুবিধা দেওয়া হবে। এসব বাস্তবায়নে অর্থনৈতিক কোনো সংকট হবে না বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তার মতে, যাকাতভিত্তিক সমাজব্যবস্থা ও দুর্নীতি প্রতিরোধ করতে পারলে বাংলাদেশ অর্থনৈতিকভাবে সম্পূর্ণ স্বাবলম্বী হবে।
দুর্নীতিমুক্ত রাষ্ট্র গঠনের প্রশ্নে তিনি বলেন, ৫৪ বাংলাদেশের ইতিহাসে ১২ বার যারা ক্ষমতায় এসেছে, তাদের মধ্যেই জামায়াতের দু’জন মন্ত্রী তিনটি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করেছেন। অণুবীক্ষণ যন্ত্র দিয়েও তাদের বিরুদ্ধে কোনো দুর্নীতিবছরেরর প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তিনি আশা প্রকাশ করেন, আগামী ১২ তারিখের ‘ভোট বিপ্লবের’ মাধ্যমে জামায়াত রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেলে জনগণ শান্তি ও নিরাপত্তার সঙ্গে জীবনযাপন করতে পারবে।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ভোলা-১ (সদর), ভোলা-৩ (লালমোহন–তজুমদ্দিন) ও ভোলা-৪ (চরফ্যাশন–মনপুরা) আসনের উদ্যোগে আয়োজিত পৃথক তিনটি নির্বাচনী জনসভায় তিনি প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন।
এদিন সকালে চরফ্যাশন টিবি মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে, দুপুরে লালমোহন সরকারি হাই স্কুল মাঠে এবং বিকেলে ভোলা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত জনসভাগুলোতে তিনি বলেন, ভোলাবাসীর মৌলিক চাহিদার মধ্যে ভোলা–বরিশাল সেতু নির্মাণ ও আধুনিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। জামায়াত রাষ্ট্রক্ষমতায় এলে অধ্যক্ষ নজরুল ইসলাম, নিজামুল হক নাঈম ও অধ্যক্ষ মোস্তফা কামালের নেতৃত্বে ভোলার এসব সমস্যা সমাধান করা হবে বলে তিনি আশ্বাস দেন।
জনসভায় তিনি প্রার্থীদের হাতে দাঁড়িপাল্লা প্রতীক ও ফুলকপি তুলে দিয়ে জনতার সামনে তাদের পরিচয় করিয়ে দেন।
জনসভায় প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও নির্বাহী পরিষদ সদস্য অ্যাডভোকেট মোয়াজ্জেম হোসাইন হেলাল, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টি (বিডিপি) চেয়ারম্যান আনোয়ারুল ইসলাম চান, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের ভিপি রিয়াজুল ইসলাম রিয়াজসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
এছাড়া উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর জেলা আমির মাস্টার জাকির হোসাইন, সেক্রেটারি মাওলানা হারুনুর রশিদ, ভোলা-১ আসনের প্রার্থী অধ্যক্ষ নজরুল ইসলাম, ভোলা-২ আসনের প্রার্থী মাওলানা ফজলুল করিম, ভোলা-৩ আসনের প্রার্থী নিজামুল হক নাঈম, ভোলা-৪ আসনের প্রার্থী অধ্যক্ষ মোস্তফা কামালসহ জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।