
আশরাফুল আলম সজিব।।ভোলার বোরহানউদ্দিনে বিনামূল্যে জরায়ুমুখে ক্যান্সাররোধ টিকা এইচপিভি প্রয়োগের পর একটি বিদ্যালয়ের কমপক্ষে ৬২ জন শিক্ষার্থী অসূস্থ হয়ে পড়েছে। অসূস্থদের সকলেই বোরহানউদ্দিন উপজেলাধীন পক্ষিয়া ইউনিয়নের “গ্যান্দা সরকারী বালিকা বিদ্যালয়ের” ছাত্রী। অসূস্থদের মধ্যে পাঁচজনকে জেলা সদর ভোলার আড়াইশ’ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এরা হলেন- বোরহাউদ্দিন পক্ষিয়া ইউনিয়নের ছাবেদা (১৩) পিতা-মো: আলম, ৪নং ওয়ার্ড, মিনা(১৩) পিতা-মো: মোসলেহউদ্দিন ৪নং ওয়ার্ড, মারিয়া,(১২) পিতা-ছাত্তার,৭ নং ওয়ার্ড, তামান্না (১৪) পিতা- রবি আলম, ৮নং ওয়ার্ড,মিতু (১৪) পিতা- আব্দুল হাই,৭নং ওয়ার্ড। বাকীরা বোরহানউদ্দিন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
ভোলা সদর হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা.নাহিদ সুলতানা জানান, টিকা দেয়ার সময় একজন অসূস্থ হয়ে পড়লে বাকীরা ভয়ে আতঙ্কগ্রস্থ্য হয়ে পরেন। ভোলার সিভিল সার্জন ডাক্তার মুনিরুল ইসলাম জানান, ওই স্কুলে সর্বমোট ১৬২ জন টিকা নিচ্ছিলো। এরমধ্যে একজন সামান্য অসূস্থ হয়ে পড়লে ৬২ জনের মধ্যেও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এটিকে তিনি গন-মনস্তাত্ত্বিক রোগ বলে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, টিকাপ্রার্থীদের মধ্যে ৬ জন ভ্যাকসিন না নিয়ে তারাও অসুস্থ হন। আতঙ্কগ্রস্ত সকল শিক্ষার্থী প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে আজই বাড়ী ফিরতে পারবেন বলে তিনি জানান। এ বিষয়ে কাউকে ভয় না পেতে অনুরোধ করেন ভোলার এ সিভিল সার্জন। ভোলার জেলা প্রশাসক আজাদ জাহান জানান,বোরহানউদ্দিন হাসপাতালে উপস্থিত হয়ে তিনি নিজেই বিষয়টি মনিটরিং করছেন। তিনি বলেন,এঘটনায় বোরহানউদ্দিন হাসপাতালের পরিচালক ডা: শেখ রুস্তম আলীকে প্রধান করে পাঁচ সদস্যের একটি মেডিকেল টিম ও পাঁচ সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এ কমিটিকে আগামী তিনদিনের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে বলেও জানান জেলা প্রশাসক।