• বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬, ০৫:১৬ অপরাহ্ন

ভোলায় অপরিপক্ব লিচুতে বাজার সয়লাব

ডেস্ক নিউজ / ২২৭ বার ভিউ
আপডেট : বৃহস্পতিবার, ১৬ মে, ২০২৪

জ্যৈষ্ঠ মাসে লিচুর মতো সুস্বাদু ফলে ভরে ওঠে বাজার। আজ থেকে শুরু হচ্ছে এই রসালো ফলের মৌসুম। সপ্তাহখানেক পরে বাজারে আসবে পরিপক্ব লিচু। তবে এরই মধ্যে ভোলার  বাজারগুলো ছেয়ে গেছে টক-মিষ্টি স্বাদের অপরিপক্ব লিচুতে। গতকাল বুধবার ভোলার চকবাজার ও নতুন বাজার ঘুরে এই চিত্র দেখা যায়। সরেজমিনে দেখা যায়, চকবাজার ও নতুন বাজারে বেশ কয়েকটি দোকানে সবুজাভ ও হালকা লাল রঙের লিচু পাওয়া যাচ্ছে। তবে পুরোপুরি মৌসুমে পাওয়া লিচুর তুলনায় এগুলোর আকার কিছুটা ছোট। মান ও আকারভেদে প্রতি ১০০ লিচুর দাম চাওয়া হচ্ছে ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা। অনেক ক্রেতাকেই এসব লিচু কিনতে দেখা গেছে। বিক্রেতাদের দাবি, এসব লিচু রাজশাহী, যশোর, নারায়ণগঞ্জ ও গাজীপুর থেকে আসে। তবে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বর্তমানে বাজারে পাওয়া বেশিরভাগ লিচুই আসছে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও ও গাজীপুরের কাপাসিয়া থেকে। এছাড়া মাদ্রাজি জাতের এসব লিচুর বেশিরভাগই এখনও পরিপক্ব হয়নি। এই কথা বিক্রেতারাও স্বীকার করেছেন। যে কারণে এসব লিচুর স্বাদও টক-মিষ্টি। জানা যায়, রাজশাহী, নাটোর ও দিনাজপুরের বোম্বাই ও বেদানা লিচু আরও এক সপ্তাহ পর বাজারে উঠবে। সেসব পরিপক্ব লিচুর আকার এখনকার তুলনায় বড় হবে, তেমনি স্বাদও মিষ্টি হবে। সেসব লিচুর রঙ হবে লাল। তবে পরিপক্ক লিচুর দাম এখনকার মতোই হবে বলে জানিয়েছেন বিক্রেতারা। নতুন বাজারের লিচু বিক্রেতা হারুন বলেন, এখন যেসব লিচু বাজারে আছে সেগুলো পুরোপুরি মিষ্টি না কিছুটা টক মিষ্টি স্বাদের। মিষ্টি লিচু সপ্তাহখানেক পরে আসবে। চক বাজারের বিক্রেতা ইলিয়াস বলেন, বছরের প্রথম লিচু বাজারে উঠেছে, ক্রেতাও আছে মোটামুটি। আরও ১০ দিন পর আরও ভালো লিচু আসবে। তখন বিক্রিও বাড়বে। সুমন নামের আরেক বিক্রেতা বলেন, সোনারগাঁও ও গাজীপুর থেকে লিচু আসছে। এগুলো একটু টক-মিষ্টি স্বাদের। দিনাজপুরের লিচু আরও পরে উঠবে। তবে তখন দাম ৩০০-৫০০ টাকা পর্যন্ত হতে পারে। আর চায়না লিচুর দাম হতে পারে প্রতি ১০০ লিচু ১ হাজার টাকা। এখন বাজারে এই ধরনের লিচু নেই। এটা আরও পরে উঠবে। এদিকে, বাজারে এখনও পরিপক্ব লিচু না উঠলেও অনেক ক্রেতাকে পরিবারের জন্য অপরিপক্ক লিচু কিনতে দেখা যায়। আবার লিচু পরিপক্ব না হওয়ায় অনেক ক্রেতাকে সেগুলো কেনা থেকে বিরত থাকতেও দেখা যায়। শাহাদাত হোসেন নামের এক ক্রেতা বলেন, বছরের প্রথম লিচু উঠেছে। ঘরে ছোট ছেলে মেয়ে আছে। তাদের জন্য বছরের প্রথম লিচু কিনলাম। চকবাজারে বাজারে ফল কিনতে আসা আবুল কালাম আজাদ লিচু না কিনতে বিরত থাকেন। তিনি বলেন, আমার বাড়ি বরিশাল চাকরির সুবাদে ভোলায় থাকি। বাজারে এখন যেসব লিচু উঠছে সেগুলো পরিপক্ব নয়। ঝড়ে ডাল ভেঙে যেসব লিচু পড়েছে, সেগুলোই বাজারে এনে বিক্রি করা হচ্ছে। আবার অনেক মুনাফালোভী বিক্রেতা কাঁচা লিচু বাজারে নিয়ে আসছেন এবং তারা এগুলোর সাথে ফরমালিন যুক্ত করে খোলা বাজারে বিক্রি করছে, এগুলোর স্বাদ মিষ্টি নয়। এসব লিচু খেয়ে বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছে শিশুরা, বিষ যুক্ত এ-সব ফলমূল প্রকাশ্যে বিক্রি হলেও বাজার মনিটরিং এর অভাবে এসবের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার যেন কেউ নেই।

শেয়ার করুন:


আপনার মতামত লিখুন :

Comments are closed.

এই বিভাগের আরো খবর

সার্চ করুন


ক্যাটাগরি


আর্কাইভ