
আশরাফুল আলম সজিব।। ভোলা সদরের একটি বেসরকারি ক্লিনিকে ভুল ইনজেকশন পুশ করার অভিযোগে ফাবিহা (১৮) নামের এক প্রসূতির মৃত্যু হয়েছে। ঘটনাটি জানাজানি হলে ক্ষুব্ধ স্বজনরা ওই ক্লিনিকে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করে এবং দায়ীদের বিচারের দাবিতে বিক্ষোভে ফেটে পড়েন। পরে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হলে নৌবাহিনীর সদস্যরা এসে পরিস্থিতি শান্ত করেন।
সোমবার (০২ ফেব্রুয়ারি) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে ভোলা সদর রোডের হাবিব ডায়াগনস্টিক অ্যান্ড ক্লিনিক সেন্টারে এ ঘটনা ঘটে।
নিহতের স্বজনরা জানান, প্রসূতি ফাবিহার প্রসব ব্যথা উঠলে বিকেলে তাকে ওই ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়। কর্তব্যরত চিকিৎসকরা নরমাল ডেলিভারি হওয়ার কথা জানালেও কিছুক্ষণ পর ক্লিনিকের দায়িত্বপ্রাপ্ত পলি নামের এক নার্স তাকে একটি ইনজেকশন পুশ করেন। ইনজেকশন দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই প্রসূতির শারীরিক অবস্থার মারাত্মক অবনতি ঘটে, শরীর কালো হয়ে যায় এবং মুহূর্তের মধ্যেই তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন।
প্রসূতির আকস্মিক মৃত্যুতে স্বজনদের আহাজারিতে পুরো ক্লিনিক এলাকা ভারী হয়ে ওঠে। এ সময় উত্তেজিত স্বজন ও স্থানীয়রা ক্লিনিকে হামলা চালিয়ে আসবাবপত্র ও সরঞ্জাম ভাঙচুর করেন। ঘটনার পরপরই ক্লিনিকের মালিকসহ চিকিৎসক ও কর্মচারীরা পালিয়ে যান বলে অভিযোগ উঠেছে।
খবর পেয়ে ভোলা সদর হাসপাতালের সিভিল সার্জন ডা. মো. মনিরুল ইসলাম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তিনি গণমাধ্যমকে বলেন, ঘটনার কথা শুনে আমি ক্লিনিকে এসেছি। রোগীর নরমাল ডেলিভারি হওয়ার কথা ছিল। ইনজেকশন পুশ করার পর রোগীর মৃত্যু হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ নেওয়া হবে এবং তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
এ বিষয়ে ভোলা সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুল ইসলাম বলেন, এ ঘটনায় অভিযোগ পেলে মামলা রুজু করা হবে। আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
ঘটনার পর এলাকায় অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে এবং পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।