
বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০০৫ সালে নির্মিত দোতলা ভবনের বিভিন্ন স্থানে পলেস্তারা খসে রড বেরিয়ে পড়েছে। ছাদেও রয়েছে ফাটল। বৃষ্টিতে টিনশেডের শ্রেণিকক্ষে পানি পড়ে বই-খাতা ভিজে যায়। ৫৮৮ শিক্ষার্থীর বিপরীতে বেঞ্চ রয়েছে মাত্র ১১০টি। ফলে একেকটি বেঞ্চে পাঁচ-ছয়জন করে বসতে হচ্ছে।
শ্রেণিকক্ষ সংকটের কারণে প্রধান শিক্ষকের কক্ষ, লাইব্রেরি ও বারান্দাতেও ক্লাস নিতে হয়। নেই বিজ্ঞানাগার, আধুনিক কম্পিউটার ল্যাব, ছাত্রীদের কমনরুম ও পর্যাপ্ত স্বাস্থ্যসম্মত শৌচাগার। একটি মাত্র টয়লেট ব্যবহার করতে হয় ৩২৯ জন ছাত্রী ও নারী শিক্ষককে। বর্ষায় জলাবদ্ধতা ও সীমানাপ্রাচীর না থাকায় বাড়ে ভোগান্তি ও নিরাপত্তা শঙ্কা।
দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী মাহবুবা আক্তার ফাতেমা বলেন, একটি মাত্র টয়লেট থাকায় ছাত্রীদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়। কমনরুম না থাকায়ও নানা সমস্যায় পড়তে হয়।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আ: সহিদ তালুকদার বলেন, বহুতল ভবনের জন্য একাধিকবার আবেদন করা হলেও বরাদ্দ পাওয়া যায়নি। ভবনসংকটের কারণে টিনের ঘরেও ক্লাস নিতে হচ্ছে।
বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি আবদুল কাদের সেলিম বলেন, শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক শিক্ষা নিশ্চিত করতে জরুরি ভিত্তিতে আধুনিক একাডেমিক ভবন, ওয়াশ ব্লক, বিজ্ঞানাগার, কম্পিউটার ল্যাব, পর্যাপ্ত বেঞ্চ ও সীমানাপ্রাচীর প্রয়োজন।
ভোলা শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মফিকুল ইসলাম জানান, সরেজমিনে বিদ্যালয়ের ভবনের নাজুক অবস্থা দেখা হয়েছে। বহুতল ভবনের আবেদন ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। যথাযথ প্রক্রিয়ায় আবেদন করা হলে ভবিষ্যতে উন্নয়ন প্রকল্পে বরাদ্দ পাওয়ার সুযোগ রয়েছে।
অবকাঠামোগত সংকটের মধ্যেও চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষায় বিদ্যালয়টির পাসের হার ৫৭ শতাংশ। স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত একটি আধুনিক ভবন নির্মাণ করে বিদ্যালয়টির দীর্ঘদিনের অবকাঠামোগত সংকট দূর করা হোক।